ভাষা আন্দোলন। বাচ্চাটাকে নিয়ে বাবা-মায়ের যত গবেষণা । স্কুল ভর্তির সময় এসে
গেল, তাও আবার প্লে গ্রুপ । আধুনিক প্রতিটা ঘরের সেই যুদ্ধ আমার ঘরে । ইংলিশ
মিডিয়াম নাকি বাংলা মিডিয়াম । ওর মায়ের যুক্তিগুলা ফেলে দেবার মত না ।
ইংলিশের ভিত্তি মজবুত হওয়া দরকার প্রথম থেকেই । যা দিনকাল পরেছে, ইংলিশ এ কাচা
হলে সর্বনাশ । তাছাড়া আশে পাশের সব বাচ্চারা কট কট করে ইংলিশ বলবে আর আমার মেয়ে হা
করে তাকিয়ে থাকবে, উহু হতে দেয়া যাবে না ।
ঢাকার মধ্যে বিশ্বসেরা স্কুলগুলোতে খোঁজ নেয়া শেষ । আমিও ড্রাইভার হিসাবে আমার
বউএর সাথে সাথে কয়েকটা জায়গায় গেলাম। দুইফুট সাইজের ছোট্ট বাচ্চাগুলা ২-৩ কেজি
ওজনের ব্যাগ, পানির বোতল ইত্যাদি নিয়ে ঝুকে ঝুকে যাচ্ছে ।মনে হচ্ছে, পিরামিড তৈরির
জন্য বড় বড় পাথর টানছে ক্রীতদাসের দল। এরপর ওই বইগুলোর ভেতর যখন জানতে পারলাম,
সর্বনাশ।
শরীরের কোন হাড্ডির কি নাম ? শালগমের আকার ক্যামন ? বাইন মাছ এর ইংলিশ কি ?
এইগুলি গুলিয়ে গুলিয়ে দেয়া। আচ্ছা, ব্রিটিশরা বাইন মাছ কি আমাদের মত করে রান্না
করে ? যেভাবেই রান্না করুক, বাইন দিয়ে ডিনার করার পর অভ্যাস অনুযায়ী ছোট এক পেগ
মদ। আমাদের বাচ্চারাও কি বাইন দিয়ে ভাত খেয়ে বলবে বাবা, ড্রিঙ্ক বানালে আমাকে দুই
পেগ দিও, খাওয়াটা বেশ হয়েছে। ওদের সাথে মিল করে তৈরি পাঠ্যসূচি, আমাদের বাচ্চাদের
স্কুল ব্যাগে ভরে দেয়ার মানে কি ?
এবার মনে পড়ল নিজের স্কুলের কথা । গভর্নমেন্ট ল্যাব। দেশের সেরা স্কুল বলে
কিছু ব্যাপার আমরা একটু লুকিয়ে যেতাম। এখন বলি, যেমন, স্কুল পালানো। স্কুল এর
পেছনের বাউন্ডারির দেয়ালে বড় বড় গজালি পেরেক মেরে রাখা ছিল পা রেখে দেয়াল টপকানোর
জন্য । তারপর পালিয়ে ঢাকা কলেজের মাঠে, পুকুরে। ডলফিন ভিডিও গেমস, নীলখেত, বলাকা ।
স্যারদের পিটানি, মামুর চটপটি, হেডস্যারের বাসা থেকে চুরি করা করমচা, বারপোস্টে
ঝুলে প্রমান করা আমি বড় হয়ে গেছি। আমরা যেভাবেই আছি, যতটুকু আছি, এর পেছনে এগুলো
সবই দরকার ছিল। এদিকে দেশ সেরা রেজাল্ট, আন্ত-স্কুল ইংরেজি বিতর্ক প্রতিযোগিতা,
বাংলা তর্ক বিতর্ক তো আছেই। ফার্মের মুরগীর চেয়ে দেশীমুরগী সুস্বাদু এবং দাম বেশি কি এই
কারণে ।
অনেক সংগ্রামের পর আমার বউ যখন জানতে চাইল আমার চিন্তা-ভাবনা কি। আমি গম্ভীরভাবে
বলে ফেললাম পুস্তক টাইপ কথা “বিদেশী ভাষা মেধা বিকাশের প্রধান বাধা”।
.................. ।
..................... ।।
........................। । ।