Sunday, 2 November 2014

ব্ল্যাক আউট

ব্ল্যাক আউট । শব্দটার সাথে আগে পরিচিত ছিলাম কিন্তু এতোটা গভীরে ভাবিনি । সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাত জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ বিচ্ছিন্ন । ওমা এটা কিএটার কারণ সঠিক জানানো হয়নি । অফিস এ ছিলাম সন্ধ্যা ছ টা পর্যন্ত, ঠিক টের পাইনি । অন্ধকার চারিধার, রাস্তায় নেমে শুধু গাড়ির আলো আর দোকান গুলোতে আধপোড়া মোমবাতি । তাড়াহুড়ো করে বাড়ি ফেরার তাগিদ সবার মাঝেই কাজ করছে। রাস্তার ল্যাম্পপোস্ট গুলোতে আলো নেই । রাস্তার ল্যাম্পপোস্ট এভাবে নিভানো আগে কখনও দেখেছি কিনা এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না । ঢাকার শহরের বড় রাস্তা, মানিক মিয়াঁ অ্যাভেন্যু কে আজকে কেমন জানি ছোট ছোট লাগছে । রাস্তার কোনায় একটা বিলবোর্ডে একটা সিনেমার বিজ্ঞাপনে, পানির মধ্যে নায়ক নায়িকাকে শুয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে । সকালে এই একই ছবি ভালই মনে হচ্ছিল, এখন দেখতে বিরক্ত লাগছে।
প্রথম ধাক্কা খেলাম, বাসায় ফোন করতে গিয়ে দেখি নেটওয়ার্ক ফেইল। এরপর হুট করে লাইনটা পেয়ে গেলাম । ওপার থেকে প্রথম কথা মোমবাতি এনোবোঝা শেষ, সব ধরনের নগরায়নের আধুনিকতা হারাতে শুরু করেছি। জেনারেটর, আই পি এস , টর্চ সব ফেইল করার পরের কথা মোমবাতি
দ্বিতীয় ধাক্কা, মনে করলাম কিছু জরুরি জিনিস কিনে রাখা দরকার । পকেটে টাকা নাই, এ টিএম বুথ সব বন্ধ হয়ে গেছে এর মধ্যে। অনেকগুলো বুথ ঘুরলাম, একটারও একটুও পাওয়ার টিকে নাই । যাইহোক, দুর্যোগ মনে করে ভাবলাম, মোমবাতি কেনার টাকাটুকু যখন আছে তো নো চিন্তা ।
কমপক্ষে ৫০ টা দোকান ঘুরলাম, এক পিস মোমবাতি পেলাম না । এক দোকানে মোমবাতি খুজে খুজে ক্লান্ত একলোক বলল, ভাই দয়া করে একটা কল করতে দেবেন । ওনার মোবাইলের চার্জ শেষ, কোনও দোকান থেকে করার উপায় নেই। কি আর করা। বিপদে তো সবাই।
এভাবে ধাক্কার পর ধাক্কা, ভাবলাম আমাদের জীবনে বিদ্যুতের গুরুত্ত নিয়ে ছোট বেলায় কোন রচনা পরেছিলাম কিনা মনে পড়ছে না । বিদ্যুতের আবিস্কারকের নামটাও মনে আসলো না । ধাক্কা খেয়ে সাবধান হয়ে গেলামবাসায় ফিরে অল্প একটু পানি দিয়ে ফ্রেশ হলাম । পানি বাঁচাতে হবে, বেসিনের গোঁড়া দিয়ে একটু পানি লিক করছে বেশ কিছুদিন ধরে, আজকে বুঝলাম যে এটা ঠিক করা কতটা জরুরি ছিল, ট্যাঙ্কির পানি এক ফোটা এক ফোটা করে অপচয় হচ্ছে ।
আকাশের দিকে এরি মধ্যে কয়েকবার তাকিয়েছি, সব নিভে গেলে এই চাঁদ বেটা তো থাকবেই।  অর্ধেক চাঁদটা মুছকি হাসছে আমাদের দিকে তাকিয়ে, মনে হচ্ছে এই সুযোগে তাচ্ছিল্লের ভেংচি কেটে বলছে “তোরা এখনো জংলি রয়ে গেছিস, শহরে থাকলেই নাগরিক হওয়া যায়না”

Sunday, 20 April 2014

শুরু হোক রঙিন ১৪২১

প্রতিটা উতসব একেকটা রঙ আছে । উতসব বললে হয়ত ভুল হবে, প্রতিটা বিশেষ দিনের জন্য বিশেষ রঙ। ভালেনটাইন্স ডে তে লাল, ২১ শে ফেব্রুয়ারী শোক দিবসে কালো সাদা, স্বাধীনতা দিবস লাল সবুজ। 

ভালেনটাইন্স ডে এর জন্য লাল, ঠিকই আছে বোধ হয়, লাল হল ভালবাসার রঙ।
শোক দিবসে কালো, যথার্থ।

স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসে লাল-সবুজ, পতাকার রঙে দেশ প্রেমের ভক্তি ফুটে ওঠে।
কিন্তু লাল সাদা বাংলা বর্ষ বরণের সাথে মিলটা কোথায় এটা আমার জানা নাই। আমরা বাংলাদেশী বাঙালি, আমরা উতসবের মুখরতা ভালবাসি। আমাদের একটা অতি সমৃদ্ধ সংস্কৃতি আছে। আমরা খালি পেটে থেকেও আনন্দ করতে পারি। শুধু মনের জোরের কারনেই তো পারি। আসলে আমাদের মনটা হল একটা রঙের আস্তানা। এই রঙগুলো আমাদের মন থেকে বের হয়ে এসে চারিদিকে ছড়ায় । পোশাকেও ছড়ায় । পহেলা বৈশাখে আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি উজার করে মনে করি। কিন্তু মনের রঙ তো শুধু লাল-সাদা নয় । আমার নিজস্ব মত হল , শুধু লাল-সাদা নয়, পহেলা বৈশাখ মানে রঙিন সবকিছু। সকল মনের রঙের একটা মাখামাখি উতসব । সবধরনের রঙ ছড়াক ছারিদিকে, পোশাকেও।

সবাইকে বাংলা নববর্ষের রঙিন শুভেচ্ছা। শুরু হোক রঙিন ১৪২১ ।

কিছু লিখতে হয় ২

সকাল সাড়ে ৭ টা । দেখলাম একটা মাইক্রোবাসের গায়ে লেখা “ফকির ফ্যাশান”। ফকির এর আবার ফ্যাশান, তাও আবার গাড়ি কিনসে, সেই গাড়ি নিয়ে আবার সকাল সকাল বের হইসে, বেটা যাচ্ছে কোথায় ? মহাখালি ? উনি কি তাহলে ফকির সমাজের বড় টাইপ কোন নেতা । হতে পারে, তাহলে তো ঠিকই আছে, গাড়ি ছাড়া গেলে কি মান-ইজ্জত কিছু থাকবে না ! কোন এক আড্ডায় শুনেছিলাম, মহাখালির এক ফকির তার এই একমাত্র জীবিকা ফকিরগিরি করে ঢাকা শহরে ৬ তলা বাড়ি করেছে। আচ্ছা, উনার বাড়িটা কি উনার নিজের তদারকিতে করা নাকি কোন ডেভেলপার ? নিজের একটা গাড়িও আছে। উনাকে ড্রাইভার ভোর বেলা মহাখালিতে উনার নির্ধারিত ভিক্ষা পয়েন্ট এ ড্রপ করে দিয়ে যায় । আচ্ছা, উনার ড্রাইভার চায়ের দোকানের আড্ডায় বসলে উনার মালিক নিয়ে কি গল্প করে ? “ফকির ফ্যাশান” লেখা গাড়িটা উনারই কিনা কে জানে । সবই আমার ধারণা । এটা কারো নামের অংশ এবং সেই জের ধরে প্রতিষ্ঠানের নামই হবে ।

কিছুক্ষন সামনে এগিয়েই দেখি একটা পুলিশের গাড়ি রাস্তায় জ্যাম পর্যবেক্ষণ করছে । ওমা, গাড়ির গায়ে বোল্ড করে লেখা “ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ” । মানে কি ? পুলিশের মধ্যে কি ইন্ডাস্ট্রিয়াল, রেসিডেনশিয়াল, কমার্শিয়াল এই ভাগাভাগির ব্যাপারটা আছে নাকি ? শব্দার্থ করলে আসে “শিল্পজাত পুলিশ”, মানে কি হল , জাত গত ভাবে যাদের মধ্যে শিল্প আছে সেই সকল পুলিশ ? নাকি শিল্পীমনা পুলিশ, নাকি পরিশ্রমী উদ্যোগী পুলিশ । পুলিশ ভাইদের সাথে কি শব্দগুলা মানাচ্ছে । প্রতিটা শব্দের , প্রতিটা ব্যাপারের এতটা ভেতরে যাবার কোন দরকার নাই । শেষে দেখা যাবে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের না হয়ে আস্ত ডাইনোসর মাথা বের করেছে ।

Monday, 10 February 2014

শুভ জন্মদিন ফেসবুক

কেউ কেউ ফটো তোলে ফেসবুক এ শেয়ার করার জন্য । ফেসবুকের জন্ম যদি না হতো তাহলে আমাদের নিজেদের কে সাজিয়ে গুছিয়ে সবার সামনে পেশ করার অভ্যাস হয়ত অন্য ভাবে আরও দেরিতে প্রকাশ পেত। ফেসবুক খুললে সব রকম খবর না জানলেও অন্তত বন্ধুদের কে কে বিদেশ ভ্রমনে গেছে, কার কার বিবাহ বার্ষিকী অথবা নতুন সন্তানের আগমন সংবাদ জানা যাবে। আর নিজেকে কোন ভাবে একটু সুন্দর লাগলে তো কথাই নেই, বাকা-সজা আঙ্গেল ফটো। কোন কোন দম্পতি একজনের প্রতি অন্যজনের ভালবাসাটাও ফেসবুকে সবাইকে জানান দিয়ে প্রকাশ করে । যেভাবেই হোক, সবার মাঝখানে প্রতি সেকেন্ডে থাকার মজাটাই আলাদা ।

ব্রাজিলের লোকজনের পেজ দেখলে মনে হয় ফুটবল খেলা ছাড়া আর কোন কাজ ওদের দিয়ে হয় না। ড্রাগন না থাকলে লুঙ্গি পরা নেপাল আর ভুটানের মানুষদের পেজে কি থাকত কে জানে । ভারতীওদের পেজে সিনেমা, বউ শাশুড়ি একশন ভরা সিরিয়াল আর ক্রিকেট । আমেরিকান্, পাগলামির সীমা নাই ।

একমাত্র বাংলাদেশীদের পেজে দেখা যায়, অন্যের জন্য আকুল আবেদন “জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসুন”, “শীত বস্ত্র বিতরন”, “জাতীয় পতাকার বিশ্ব রেকর্ড” অথবা ধর্মীও কোন পোস্ট যেটা বার বার শেয়ার করলে অনেক শোয়াব পাওয়া যাবে । আপনার হোম পেজে লাস্ট কয়েকটা পোস্ট দেখলেই প্রমান পাবেন।

মার্ক জুকারবর্গ কি জানেন জাতি হিসাবে আমরা ফেসবুক কে কত সুন্দর ব্যবহার করতে জানি ?

“ ১০ম শুভ জন্মদিন ফেসবুক ” ... ইংরেজিতে না লিখলে কি মার্ক জুকারবর্গ ও তার দল বুঝবে,......

HAPPY BIRTHDAY TO FACEBOOK

Tuesday, 14 January 2014

ভাষা আন্দোলন



ভাষা আন্দোলন। বাচ্চাটাকে নিয়ে বাবা-মায়ের যত গবেষণা । স্কুল ভর্তির সময় এসে গেল, তাও আবার প্লে গ্রুপ । আধুনিক প্রতিটা ঘরের সেই যুদ্ধ আমার ঘরে । ইংলিশ মিডিয়াম নাকি বাংলা মিডিয়াম । ওর মায়ের যুক্তিগুলা ফেলে দেবার মত না । 

ইংলিশের ভিত্তি মজবুত হওয়া দরকার প্রথম থেকেই । যা দিনকাল পরেছে, ইংলিশ এ কাচা হলে সর্বনাশ । তাছাড়া আশে পাশের সব বাচ্চারা কট কট করে ইংলিশ বলবে আর আমার মেয়ে হা করে তাকিয়ে থাকবে, উহু হতে দেয়া যাবে না । 

ঢাকার মধ্যে বিশ্বসেরা স্কুলগুলোতে খোঁজ নেয়া শেষ । আমিও ড্রাইভার হিসাবে আমার বউএর সাথে সাথে কয়েকটা জায়গায় গেলাম। দুইফুট সাইজের ছোট্ট বাচ্চাগুলা ২-৩ কেজি ওজনের ব্যাগ, পানির বোতল ইত্যাদি নিয়ে ঝুকে ঝুকে যাচ্ছে ।মনে হচ্ছে, পিরামিড তৈরির জন্য বড় বড় পাথর টানছে ক্রীতদাসের দল। এরপর ওই বইগুলোর ভেতর যখন জানতে পারলাম, সর্বনাশ।
শরীরের কোন হাড্ডির কি নাম ? শালগমের আকার ক্যামন ? বাইন মাছ এর ইংলিশ কি ? এইগুলি গুলিয়ে গুলিয়ে দেয়া। আচ্ছা, ব্রিটিশরা বাইন মাছ কি আমাদের মত করে রান্না করে ? যেভাবেই রান্না করুক, বাইন দিয়ে ডিনার করার পর অভ্যাস অনুযায়ী ছোট এক পেগ মদ। আমাদের বাচ্চারাও কি বাইন দিয়ে ভাত খেয়ে বলবে বাবা, ড্রিঙ্ক বানালে আমাকে দুই পেগ দিও, খাওয়াটা বেশ হয়েছে। ওদের সাথে মিল করে তৈরি পাঠ্যসূচি, আমাদের বাচ্চাদের স্কুল ব্যাগে ভরে দেয়ার মানে কি ?

এবার মনে পড়ল নিজের স্কুলের কথা । গভর্নমেন্ট ল্যাব। দেশের সেরা স্কুল বলে কিছু ব্যাপার আমরা একটু লুকিয়ে যেতাম। এখন বলি, যেমন, স্কুল পালানো। স্কুল এর পেছনের বাউন্ডারির দেয়ালে বড় বড় গজালি পেরেক মেরে রাখা ছিল পা রেখে দেয়াল টপকানোর জন্য । তারপর পালিয়ে ঢাকা কলেজের মাঠে, পুকুরে। ডলফিন ভিডিও গেমস, নীলখেত, বলাকা । স্যারদের পিটানি, মামুর চটপটি, হেডস্যারের বাসা থেকে চুরি করা করমচা, বারপোস্টে ঝুলে প্রমান করা আমি বড় হয়ে গেছি। আমরা যেভাবেই আছি, যতটুকু আছি, এর পেছনে এগুলো সবই দরকার ছিল। এদিকে দেশ সেরা রেজাল্ট, আন্ত-স্কুল ইংরেজি বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বাংলা তর্ক বিতর্ক তো আছে। ফার্মের মুরগীর  চেয়ে দেশীমুরগী সুস্বাদু এবং দাম বেশি কি এই কারণে । 

অনেক সংগ্রামের পর আমার বউ যখন জানতে চাইল আমার চিন্তা-ভাবনা কি। আমি গম্ভীরভাবে বলে ফেললাম পুস্তক টাইপ কথা “বিদেশী ভাষা মেধা বিকাশের প্রধান বাধা”। 

.................. ।
..................... ।।
........................। । ।

অনেক সংগ্রামের পর বাংলা ভাষার জয় হল । আরেকবার শেষ হল ভাষা আন্দোলন। আমার মেয়ে এখন বাংলা ভাষার বই নিয়ে প্লে গ্রুপে স্কুল শুরু করেছে।